Joy Bangla Penson Scheme| আবেদনের পদ্ধতি সুবিধা গুলি দেখে নিন

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দরিদ্র মানুষের জন্য একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছেন। প্রকল্পটির নাম হল Joy Bangla Penson Scheme, আমরা আজকে আপনাদের এই জয় বাংলা পেনশন স্কিম সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সুবিধা গুলি নিয়ে আলোচনা করব। আমরা সুন্দরভাবে স্কিমটি সম্বন্ধে আলোচনা করেছি, আপনারা কিভাবে জয় বাংলা পেনশন স্কিমের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদনের তারিখ এছাড়া কোন ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলি সম্পূর্ণরূপে দেওয়া হলো।

জয় বাংলা পেনশন স্কিম (Joy Bangla Penson Scheme)

পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন তিনটি দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই দুটি ভাগ আমাদের সমাজে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীগুলিকে অনেক উপকৃত করবে। দুটি শ্রেণী হল তপসিলি জাতি এবং তপসিলি উপজাতি ,তপসিলি জাতিদের জন্য যে বিশেষ প্রকল্পটি চালু হয়েছে তা হলো তপসিল বন্ধু পেনশন স্কিম নামে পরিচিত এবং তপসিলি উপজাতির জন্য যে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে তা হলো জয় জোহার প্রকল্প। এই দুটি স্কিম সমাজের পিছিয়ে পড়া জাতি ও শ্রেণী গুলিকে অনেক উপকার প্রদান করবে।

প্রকল্পের নাম Joy Bangla Penson Scheme
চালু করেছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী
সুবিধাভোগী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা
উদ্দেশ্যপেনশন প্রদান
আবেদন আবেদন করুন

জয় বাংলা পেনশন স্কিমের সুবিধা (Benefit of Joy Bangla Penson Scheme)

পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র পশ্চিম বাংলা পেনশন প্রকল্পের অনেকগুলি সুবিধা ঘোষণা করেছেন। এই পশ্চিমবঙ্গ Joy Bangla Penson Scheme দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে যাতে করে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা আলাদাভাবে প্রকল্পটির সুবিধা গুলি পেতে পারেন, স্কিমটি যেন সকলের কাছে উপলব্ধ হয়।

স্কিমে আবেদনকারীরা কত টাকা করে পাবেন

এই প্রকল্পে আবেদনকারীরা কত টাকা করে পাবেন তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হল-

  • তপসিলি বন্ধু পেনশন স্কিমে আবেদনকারীরা প্রত্যেকে ৬০০ টাকা করে পাবেন।
  • জয় জোহার স্কিমে অন্তর্গত আবেদনকারীরা ১০০০ টাকা করে পাবেন।

জয় বাংলা পেনশন স্কীমের বৈশিষ্ট্য

  • আবেদনকারীরা সরাসরি তাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকাটি পাবেন।
  • রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পটির জন্য একটি আলাদা পোর্টাল চালু করতে চলেছে।
  • রাজ্যের প্রায় ২১ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
  • SC/ ST- এর যেকোনো ব্যক্তি যিনি বৃদ্ধ অথবা বিধবা/ PWD আবেদন করতে পারবেন।
  • রাজ্য সরকার এখনো স্কিমটি নিয়ে বাজেট সিদ্ধান্ত করেননি।

জয় বাংলা পেনশন স্কিমের জন্য যোগ্যতা

এই জয় বাংলা পেনশন স্কিমের জন্য যেসব প্রয়োজনীয় যোগ্যতা দরকার অর্থাৎ যে মানদণ্ড গুলি অনুসরণ করতে হবে তা দেয়া হলো –

  • স্কিমে আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • অবশ্যই আবেদনকারীরা বিপিএল ক্যাটাগরির অন্তর্গত থাকতে হবে।
  • আবেদনকারীর বয়স ৬০ বছরের বেশি হতে হবে।
  • আবেদনকারীকে অবশ্যই তপসিলি জাতি অথবা তপসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
  • আবেদনকারীর পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য পেনশন প্রকল্পে নাম থাকা চলবে না।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জয় বাংলা পেনশন স্কিমে আবেদন করার জন্য যে সমস্ত ডকুমেন্টের প্রয়োজন তা নিম্নে দেয়া হলো-

  • দু কপি পাসপোর্ট সাইজ ফটো।
  • একটি আবেদন ফর্ম।
  • কাস্ট সার্টিফিকেট এর জেরক্স কপি।
  • ডিজিটাল রেশন কার্ডের জেরক্স কপি।
  • আধার কার্ডের জেরক্স।
  • ভোটার আইডি কার্ডের জেরক্স।
  • স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র।
  • ইনকাম সার্টিফিকেট।
  • ব্যাঙ্কের পাস বইয়ের জেরক্স।

আবেদনকারীর মৃত্যু হলে কি করা হবে

  • যদি পেনশন চলাকালীন আবেদনকারী মৃত্যু হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি প্রয়োগ করবেন-
  • পেনশন ভোগকারীর মৃত্যু হলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে পেনশন বিভাগ পেনশনটি বন্ধের জন্য পদক্ষেপ নেবে।
  • পেনশন পাওয়া ব্যক্তির মৃত্যুর পর একাউন্টে থাকা টাকার পরিমান ওই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
Sukanya Samriddhi Scheme সম্পূর্ণ জানতে ক্লিক করুন

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পটি আবেদন প্রক্রিয়া (How to Apply Joy Bangla Penson Scheme)

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্প টির জন্য কিভাবে আবেদন করবেন তা নিম্নে দেওয়া হল –

  • হোমপেজে যাবার পর West Bengal Pension Scheme Registration অপশনটিতে ক্লিক করুন।
Joy bangla Scheme
  • এরপর আবেদন পত্রটি আপনার সামনে চলে আসবে।
  • আপনার কাছাকাছি সরকারি অফিস থেকে অফলাইনে আবেদন পত্রটি পেতে পারেন।
  • এরপর আবেদন পত্রটি ক্লিক করে ডাউনলোড করতে পারেন।
  • আবেদনপত্রের একটি প্রিন্ট আউট বার করে নিন এবং ফরমটিতে শূন্যস্থান গুলি পূরণ করুন যেমন- আবেদনকারীর নাম, বয়স, লিঙ্গ, পিতার নাম, মায়ের নাম, কাস্ট, ইত্যাদি।
  • এরপর প্রয়োজনীয় নথি গুলি যুক্ত করুন।
  • আপনার এলাকা অনুযায়ী আবেদন পত্রটি নিম্নে লিখিত জায়গায় জমা করতে হবে।
  • যদি গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন তাহলে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে জমা করতে পারেন।
  • আবেদনকারী যদি পৌরসভা এলাকায় বসবাস করেন তাহলে পৌরসভায় ফর্ম জমা দেবেন।

আবেদনপত্র পূরণ করার সময় যেগুলি মনে রাখতে হবে

  • আবেদন পত্রটি সম্পূর্ণ ক্যাপিটাল লেটারে ফিলাপ করতে হবে।
Joy bangla Scheme
  • বাধ্যতামূলক কলমগুলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
  • জেরক্স কপিগুলি নিজে সই করে জমা দেবেন।
  • আবেদন পত্রটিতে পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগাতে হবে।

জয় বাংলা পেনশনকারীদের কিভাবে নির্বাচন করা হবে

আপনার ফর্ম জমা দেবার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি নির্বাচনের জন্য গ্রহণ করবে

  • আবেদন পত্র গুলি BDO অথবা SDO ও বা KMC কমিশনার দ্বারা ভালোভাবে যাচাই করা হবে।
  • এই স্কিমের অন্তর্গত আবেদনকারীদের যোগ্যতা নির্বাচন করা হবে।
  • আপনাদের জমা করার সমস্ত আবেদনপত্র গুলিকে ভিডিও এইচডি ও অথবা কমিশনার দ্বারা পোর্টালে আপলোড করা হবে।
  • BDO এবং SDO ও রাজ্য পোর্টালের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফর্মে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করবেন।
  • জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরপর নোডাল বিভাগে পাঠাবেন।
  • কমিশনার KMC রাজ্য পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি নোডাল বিভাগের যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করবেন।
  • নোডাল বিভাগ পেনশনটি মঞ্জুর করবেন।
  • WBIFMS পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি আবেদনকারীরা ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাবেন।
  • পেনশন বিতরণ সঠিকভাবে হওয়ার জন্য রাজ্য পোর্টালকে WBIFMS এর সাথে একত্রিত করা হবে।
  • প্রত্যেক ইংরেজি মাসের ১ তারিখে পেনশন দেয়া হবে।

I'm Suhana Khan, I'am a professional blogger and a teacher. I am happy to share new information and it's proud for me. I have 3 years experience of blogging.

Leave a Comment